প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘আইডিয়া টু পাবলিকেশন ২.০’
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘আইডিয়া টু পাবলিকেশন ২.০’
২০ আগস্ট ২০২৬,বৃহস্পতিবার, গবেষণার ধারণা তৈরি থেকে শুরু করে একটি মানসম্মত গবেষণাপত্র প্রকাশনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতে আইইইই প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৫টায় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘আইডিয়া টু পাবলিকেশন ২.০’ শীর্ষক গবেষণাবিষয়ক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য শুধু তার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল বা ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং গবেষণা, উদ্ভাবন ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সক্ষমতার মধ্যেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য নিহিত। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের ফলে গবেষণার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত পাঠ্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন প্রশ্ন করতে, সমস্যাকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে এবং সেই সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান খুঁজতে উৎসাহিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি ভালো গবেষণা শুরু হয় একটি ভালো প্রশ্ন থেকে। গবেষণার বিষয় নির্বাচন, সঠিক গবেষণা পদ্ধতি নির্ধারণ, পূর্ববর্তী গবেষণা বিশ্লেষণ, গবেষণার ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং নির্ভরযোগ্য উপাত্তের ভিত্তিতে ফলাফল উপস্থাপন—প্রতিটি ধাপই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করাই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়; বরং গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখাই হওয়া উচিত একজন গবেষকের প্রধান লক্ষ্য।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির। তিনি গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও পেশাগত দক্ষতা বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইইই প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট শাখার কাউন্সেলর মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন মুন্না। তাঁর নেতৃত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা অভিজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষকদের কাছ থেকে গবেষণা পরিচালনা ও গবেষণাপত্র প্রকাশনার বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে গবেষণার বিভিন্ন ধাপ নিয়ে আলোচনা করতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট শিক্ষক ও গবেষকেরা অংশগ্রহণ করেন। চারটি পৃথক অধিবেশনে গবেষণার প্রশ্ন ও বিষয় নির্বাচন, গবেষণার পদ্ধতি নির্ধারণ, পূর্ববর্তী গবেষণা পর্যালোচনা, গবেষণার ঘাটতি চিহ্নিতকরণ এবং গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রথম অধিবেশনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম ‘রিসার্চ মেথোডলজি’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন। তিনি একটি গবেষণার উপযুক্ত প্রশ্ন নির্ধারণ এবং সেই প্রশ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গবেষণা পদ্ধতি নির্বাচন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পরবর্তী অধিবেশনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসান চৌধুরী ‘কীভাবে ভালো লিটারেচার রিভিউ’ শীর্ষক আলোচনায় গবেষণার জন্য প্রাসঙ্গিক পূর্ববর্তী গবেষণা অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও যথাযথভাবে পর্যালোচনা করার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির তড়িৎ ও তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান টুটন চন্দ্র মল্লিক ‘কৌতূহল থেকে নতুন কিছু: গবেষণার ঘাটতি খুঁজে বের করা’ শীর্ষক অধিবেশনে একটি গবেষণায় নতুনত্ব ও সম্ভাব্য গবেষণার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান ‘গবেষণার ফলাফল উন্মোচন’ শীর্ষক অধিবেশনে গবেষণার উপাত্ত বিশ্লেষণ, ফলাফল ব্যাখ্যা এবং গবেষণার ফলাফল থেকে নতুন জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি তুলে ধরার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
চারটি অধিবেশনের সমন্বয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গবেষণার একটি পূর্ণাঙ্গ যাত্রা তুলে ধরা হয়—গবেষণার প্রশ্ন তৈরি থেকে পদ্ধতি নির্বাচন, লিটারেচার রিভিউ থেকে গবেষণার ঘাটতি চিহ্নিতকরণ এবং উপাত্ত বিশ্লেষণ থেকে গবেষণার ফলাফল প্রকাশনা পর্যন্ত।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলা, একাডেমিক গবেষণায় আগ্রহ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপত্র প্রকাশে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ‘আইডিয়া টু পাবলিকেশন ২.০’ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে ভূমিকা রাখে।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘আইডিয়া টু পাবলিকেশন ২.০’
Thursday, 20 August, 2026
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘আইডিয়া টু পাবলিকেশন ২.০’
২০ আগস্ট ২০২৬,বৃহস্পতিবার, গবেষণার ধারণা তৈরি থেকে শুরু করে একটি মানসম্মত গবেষণাপত্র প্রকাশনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতে আইইইই প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৫টায় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘আইডিয়া টু পাবলিকেশন ২.০’ শীর্ষক গবেষণাবিষয়ক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য শুধু তার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল বা ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং গবেষণা, উদ্ভাবন ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সক্ষমতার মধ্যেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য নিহিত। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের ফলে গবেষণার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত পাঠ্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন প্রশ্ন করতে, সমস্যাকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে এবং সেই সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান খুঁজতে উৎসাহিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি ভালো গবেষণা শুরু হয় একটি ভালো প্রশ্ন থেকে। গবেষণার বিষয় নির্বাচন, সঠিক গবেষণা পদ্ধতি নির্ধারণ, পূর্ববর্তী গবেষণা বিশ্লেষণ, গবেষণার ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং নির্ভরযোগ্য উপাত্তের ভিত্তিতে ফলাফল উপস্থাপন—প্রতিটি ধাপই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করাই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়; বরং গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখাই হওয়া উচিত একজন গবেষকের প্রধান লক্ষ্য।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির। তিনি গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও পেশাগত দক্ষতা বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইইই প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট শাখার কাউন্সেলর মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন মুন্না। তাঁর নেতৃত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা অভিজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষকদের কাছ থেকে গবেষণা পরিচালনা ও গবেষণাপত্র প্রকাশনার বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে গবেষণার বিভিন্ন ধাপ নিয়ে আলোচনা করতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট শিক্ষক ও গবেষকেরা অংশগ্রহণ করেন। চারটি পৃথক অধিবেশনে গবেষণার প্রশ্ন ও বিষয় নির্বাচন, গবেষণার পদ্ধতি নির্ধারণ, পূর্ববর্তী গবেষণা পর্যালোচনা, গবেষণার ঘাটতি চিহ্নিতকরণ এবং গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রথম অধিবেশনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম ‘রিসার্চ মেথোডলজি’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন। তিনি একটি গবেষণার উপযুক্ত প্রশ্ন নির্ধারণ এবং সেই প্রশ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গবেষণা পদ্ধতি নির্বাচন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পরবর্তী অধিবেশনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসান চৌধুরী ‘কীভাবে ভালো লিটারেচার রিভিউ’ শীর্ষক আলোচনায় গবেষণার জন্য প্রাসঙ্গিক পূর্ববর্তী গবেষণা অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও যথাযথভাবে পর্যালোচনা করার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির তড়িৎ ও তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান টুটন চন্দ্র মল্লিক ‘কৌতূহল থেকে নতুন কিছু: গবেষণার ঘাটতি খুঁজে বের করা’ শীর্ষক অধিবেশনে একটি গবেষণায় নতুনত্ব ও সম্ভাব্য গবেষণার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান ‘গবেষণার ফলাফল উন্মোচন’ শীর্ষক অধিবেশনে গবেষণার উপাত্ত বিশ্লেষণ, ফলাফল ব্যাখ্যা এবং গবেষণার ফলাফল থেকে নতুন জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি তুলে ধরার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
চারটি অধিবেশনের সমন্বয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গবেষণার একটি পূর্ণাঙ্গ যাত্রা তুলে ধরা হয়—গবেষণার প্রশ্ন তৈরি থেকে পদ্ধতি নির্বাচন, লিটারেচার রিভিউ থেকে গবেষণার ঘাটতি চিহ্নিতকরণ এবং উপাত্ত বিশ্লেষণ থেকে গবেষণার ফলাফল প্রকাশনা পর্যন্ত।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলা, একাডেমিক গবেষণায় আগ্রহ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপত্র প্রকাশে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ‘আইডিয়া টু পাবলিকেশন ২.০’ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে ভূমিকা রাখে।