প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন বিষয়ে আলোচনা ও দেওয়ালিকা প্রদর্শনী
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন বিষয়ে আলোচনা ও দেওয়ালিকা প্রদর্শনী
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের এলএলবি ৫৮তম ব্যাচ, সেকশন ‘ক’-এর উদ্যোগে সমসাময়িক পারিবারিক ও ব্যক্তিগত আইনি ইস্যু নিয়ে ‘ডিসকাশন অন কন্টেম্পোরারি পার্সোনাল ইস্যুজ অ্যান্ড ওয়ালপেপার এক্সিবিশন’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমী আলোচনা সভা ও দেওয়ালিকা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির হাজারী লেইন ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডজাঙ্ক্ট ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ মোরশেদ মাহমুদ খান এবং সহকারী ডিন তানজিনা আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইন বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব অনুপ কুমার বিশ্বাস। পুরো অনুষ্ঠানটির সমন্বয় ও নির্দেশনায় ছিলেন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুরিনা তারজিদ।
অনুষ্ঠানে ৫৮তম ব্যাচের ৪০ জন শিক্ষার্থী মোট ৮টি দলে বিভক্ত হয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনের বিভিন্ন জটিল ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ৮টি বিশ্লেষণাত্মক নিবন্ধ ও সংবাদপত্রের কাটিং-সম্বলিত দেওয়ালিকা উপস্থাপন করেন।
দেওয়ালিকাগুলোতে বিবাহ, দেনমোহর, বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তানের খোরপোষ, অভিভাবকত্বসহ পারিবারিক ও ব্যক্তিগত আইনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীরা এসব বিষয়ে আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ উপস্থাপনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা ও সংবাদপত্রের প্রতিবেদন প্রদর্শন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির বলেন, “আইনশিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান অর্জন নয়; বরং সেই জ্ঞানকে সমাজের বাস্তব সমস্যা ও মানুষের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার সক্ষমতা অর্জন করা। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন মানুষের দৈনন্দিন জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং মৌলিক অধিকারকে সরাসরি প্রভাবিত করে। তাই এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের গভীরভাবে অধ্যয়ন, গবেষণা ও বিশ্লেষণী দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী চিন্তা, সৃজনশীলতা এবং বাস্তব আইনগত বিষয় বিশ্লেষণের সক্ষমতার একটি সুন্দর প্রকাশ। আমি আশা করি, তারা ভবিষ্যতে আইনজীবী ও আইনজ্ঞ হিসেবে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
অ্যাডজাঙ্ক্ট ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ মোরশেদ মাহমুদ খান বলেন, “মুসলিম আইন আমার প্রিয় বিষয় এবং এই বিষয়ের প্রতি আমার ভালোবাসা আজও অটুট। আমার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে ৮টি সংবাদপত্রে গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে তাদের বিশ্লেষণী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। তাদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, তারা কেবল পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে আইনের প্রয়োগ ও বিশ্লেষণেও পারদর্শী হয়ে উঠছে। তাদের গবেষণামুখী মনন ও সৃজনশীল সাহসিকতায় আমি অভিভূত। এটাই আইনশাস্ত্রের প্রকৃত চেতনা।”
সহকারী ডিন তানজিনা আলম চৌধুরী বলেন, “আমি গর্বিত যে, আমাদের শিক্ষার্থীরা শেখার পাশাপাশি কর্মের মাধ্যমেও এই বিষয়ে অসাধারণ কিছু করছে। এই আয়োজন তারই প্রমাণ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মুসলিম পারিবারিক আইনের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইনগত সংস্কারের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও জরুরি। আইনের প্রয়োগ ও সমাজের বাস্তবতার মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা নিরসনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।”
সভাপতির বক্তব্যে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব অনুপ কুমার বিশ্বাস বলেন, “বাংলাদেশের পারিবারিক আইনসমূহ একটি কাঠামো প্রদান করলেও আইনগত সচেতনতার অভাব ও সামাজিক বাস্তবতার ফারাক জনগণের, বিশেষত নারীর অধিকারকে প্রায়শই ক্ষুণ্ন করে। আইনবিদ ও শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো সংলাপের মাধ্যমে ধর্মীয় ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখে—এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইনি পদ্ধতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।”
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমদ রাজীব চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় বিশ্বাস, সহযোগী অধ্যাপক হিল্লোল সাহা, সহকারী অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নোমান, সহকারী অধ্যাপক তাহমিনা সানজিদা শহীদ এবং লেকচারার মেহেরুন্নেসা বেগম।
আলোচনা সভায় সমসাময়িক ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনের বিভিন্ন দিক, এসব আইনের বাস্তব প্রয়োগ এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব ও সমসাময়িক আইনগত বিষয় বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপনের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা জানান।
অনুষ্ঠানে আইন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
Related News
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ও Asperia Health Care Ltd.-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন বিষয়ে আলোচনা ও দেওয়ালিকা প্রদর্শনী
Saturday, 15 August, 2026
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন বিষয়ে আলোচনা ও দেওয়ালিকা প্রদর্শনী
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের এলএলবি ৫৮তম ব্যাচ, সেকশন ‘ক’-এর উদ্যোগে সমসাময়িক পারিবারিক ও ব্যক্তিগত আইনি ইস্যু নিয়ে ‘ডিসকাশন অন কন্টেম্পোরারি পার্সোনাল ইস্যুজ অ্যান্ড ওয়ালপেপার এক্সিবিশন’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমী আলোচনা সভা ও দেওয়ালিকা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির হাজারী লেইন ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডজাঙ্ক্ট ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ মোরশেদ মাহমুদ খান এবং সহকারী ডিন তানজিনা আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইন বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব অনুপ কুমার বিশ্বাস। পুরো অনুষ্ঠানটির সমন্বয় ও নির্দেশনায় ছিলেন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুরিনা তারজিদ।
অনুষ্ঠানে ৫৮তম ব্যাচের ৪০ জন শিক্ষার্থী মোট ৮টি দলে বিভক্ত হয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনের বিভিন্ন জটিল ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ৮টি বিশ্লেষণাত্মক নিবন্ধ ও সংবাদপত্রের কাটিং-সম্বলিত দেওয়ালিকা উপস্থাপন করেন।
দেওয়ালিকাগুলোতে বিবাহ, দেনমোহর, বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তানের খোরপোষ, অভিভাবকত্বসহ পারিবারিক ও ব্যক্তিগত আইনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীরা এসব বিষয়ে আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ উপস্থাপনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা ও সংবাদপত্রের প্রতিবেদন প্রদর্শন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির বলেন, “আইনশিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান অর্জন নয়; বরং সেই জ্ঞানকে সমাজের বাস্তব সমস্যা ও মানুষের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার সক্ষমতা অর্জন করা। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন মানুষের দৈনন্দিন জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং মৌলিক অধিকারকে সরাসরি প্রভাবিত করে। তাই এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের গভীরভাবে অধ্যয়ন, গবেষণা ও বিশ্লেষণী দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী চিন্তা, সৃজনশীলতা এবং বাস্তব আইনগত বিষয় বিশ্লেষণের সক্ষমতার একটি সুন্দর প্রকাশ। আমি আশা করি, তারা ভবিষ্যতে আইনজীবী ও আইনজ্ঞ হিসেবে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
অ্যাডজাঙ্ক্ট ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ মোরশেদ মাহমুদ খান বলেন, “মুসলিম আইন আমার প্রিয় বিষয় এবং এই বিষয়ের প্রতি আমার ভালোবাসা আজও অটুট। আমার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে ৮টি সংবাদপত্রে গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে তাদের বিশ্লেষণী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। তাদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, তারা কেবল পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে আইনের প্রয়োগ ও বিশ্লেষণেও পারদর্শী হয়ে উঠছে। তাদের গবেষণামুখী মনন ও সৃজনশীল সাহসিকতায় আমি অভিভূত। এটাই আইনশাস্ত্রের প্রকৃত চেতনা।”
সহকারী ডিন তানজিনা আলম চৌধুরী বলেন, “আমি গর্বিত যে, আমাদের শিক্ষার্থীরা শেখার পাশাপাশি কর্মের মাধ্যমেও এই বিষয়ে অসাধারণ কিছু করছে। এই আয়োজন তারই প্রমাণ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মুসলিম পারিবারিক আইনের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইনগত সংস্কারের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও জরুরি। আইনের প্রয়োগ ও সমাজের বাস্তবতার মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা নিরসনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।”
সভাপতির বক্তব্যে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব অনুপ কুমার বিশ্বাস বলেন, “বাংলাদেশের পারিবারিক আইনসমূহ একটি কাঠামো প্রদান করলেও আইনগত সচেতনতার অভাব ও সামাজিক বাস্তবতার ফারাক জনগণের, বিশেষত নারীর অধিকারকে প্রায়শই ক্ষুণ্ন করে। আইনবিদ ও শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো সংলাপের মাধ্যমে ধর্মীয় ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখে—এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইনি পদ্ধতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।”
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমদ রাজীব চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় বিশ্বাস, সহযোগী অধ্যাপক হিল্লোল সাহা, সহকারী অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নোমান, সহকারী অধ্যাপক তাহমিনা সানজিদা শহীদ এবং লেকচারার মেহেরুন্নেসা বেগম।
আলোচনা সভায় সমসাময়িক ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনের বিভিন্ন দিক, এসব আইনের বাস্তব প্রয়োগ এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব ও সমসাময়িক আইনগত বিষয় বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপনের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা জানান।
অনুষ্ঠানে আইন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।