puc_logo

Premier University
Center Of Excellence For Quality Learning

puc_logo
-->

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগের উদ্যোগে সকাল ৯টায় অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রতিযোগিতার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ইউনিভার্সিটির দামপাড়া ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব, ফলাফল ঘোষণা এবং সেরা ১০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়।

৬ নভেম্বর ২০২৬, বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার, রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার দেব এবং বাংলাদেশ গণিত সমিতির কাউন্সিল সদস্য ও ই-ম্যাথ বাংলাদেশের গবেষক কাজী মো. খায়রুল বাশার। এ পর্বে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং গণিতচর্চা ও সমস্যা সমাধানের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা, চিন্তাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে। প্রতিটি গাণিতিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করাকেও তিনি সাহসিকতার পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার বিজয়ীদের অভিনন্দন এবং অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের গণিতভীতি দূর করে গণিতের প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা তৈরি করে। নিয়মিত অনুশীলন, আনন্দের সঙ্গে গণিতচর্চা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জটিল সমস্যা সমাধান ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির তাঁর বক্তব্যে বলেন, তথ্যবিজ্ঞান, নিউরাল নেটওয়ার্ক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে গণিতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অলিম্পিয়াড তরুণ গণিতবিদদের বিকাশ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে সহায়তা করবে। আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদাউস বলেন, প্রতিযোগিতায় প্রাপ্ত অবস্থানই একমাত্র অর্জন নয়; নতুন কিছু শেখার আগ্রহ, কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার সাহস এবং পরস্পরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশ গণিত সমিতি, এ. এফ. মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-প্রতিনিধি, আয়োজক কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার দেব গণিতের মৌলিক ধারণা আয়ত্ত করা, নিয়মিত অনুশীলন এবং গাণিতিক সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও গবেষণামুখী মনোভাব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম তাঁর বক্তব্যে গণিতের মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে বোঝার পাশাপাশি নিয়মিত চর্চা ও যুক্তিনির্ভর চিন্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের গাণিতিক সমস্যা সমাধানে ধৈর্যশীল হওয়ার এবং বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গণিতের প্রয়োগ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশ গণিত সমিতির কাউন্সিল সদস্য ও ই-ম্যাথ বাংলাদেশের গবেষক কাজী মো. খায়রুল বাশার জানান, দেশের আটটি অঞ্চলে একই প্রশ্নপত্রে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। তিনি গণিতচর্চা ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে সমিতির বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এবং আয়োজনটি সফল করায় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গণিত সমিতির কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য,বাংলাদেশ গণিত সমিতির উদ্যোগে এবং এ. এফ. মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগ চট্টগ্রাম অঞ্চলের আয়োজনটি সম্পন্ন করে। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এ মর্যাদাপূর্ণ অলিম্পিয়াডের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পর্ব আয়োজনের দায়িত্ব পালন করল প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি,গণিত বিভাগ। ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৭টি কলেজের মোট ১২৬ জন শিক্ষার্থীর নাম নিবন্ধিত হয়; তাঁদের মধ্যে ১১৮ জন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬০ জন ছিলেন নারী শিক্ষার্থী। সেরা দশের ছয়জনই নারী, যা এবারের অলিম্পিয়াডের একটি উল্লেখযোগ্য দিক।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর ফলাফল অনুযায়ী, প্রথম স্থান অধিকার করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজ কুরুনি জিহাদ। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এমডি খলিলুর রহমান রিয়াদ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুমাইয়া আক্তার। চতুর্থ স্থান অধিকার করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বা সওদাগর মাহি এবং পঞ্চম স্থান অর্জন করে আয়োজক প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিশেষ আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করেন।

এ ছাড়া ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের সুমি আহমেদ। সপ্তম ও অষ্টম স্থান অর্জন করেন যথাক্রমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজমুল হাসান ও ফারজানা আক্তার। নবম স্থান অধিকার করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসরাত জাহান এবং দশম স্থান অর্জন করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনায়েদুল ইসলাম ইসফাত। এই দশজন প্রতিযোগী আগামী ৪ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ গণিত সমিতির পক্ষ থেকে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সমিতির পক্ষ থেকে বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম ক্রেস্টটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের হাতে তুলে দেন। অন্যদিকে, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার দেব ও কাজী মো. খায়রুল বাশারকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন-অর-রশিদ এবং কোষাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক ড. হারধন কুমার মহাজন। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দিনব্যাপী আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।

Related News

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের ২৯তম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগে ইন্টার্নশিপ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ কমপ্লিশন সেরিমোনি অনুষ্ঠিত

Read More

মরহুম সৈয়দ মোহাম্মদ মিনহাজ হোসেইনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে পিইউডিএসের পাবলিক স্পিকিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে ইন্টার-সেমিস্টার দাবা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত

Friday, 6 November, 2026

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগের উদ্যোগে সকাল ৯টায় অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রতিযোগিতার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ইউনিভার্সিটির দামপাড়া ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব, ফলাফল ঘোষণা এবং সেরা ১০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়।

৬ নভেম্বর ২০২৬, বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার, রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার দেব এবং বাংলাদেশ গণিত সমিতির কাউন্সিল সদস্য ও ই-ম্যাথ বাংলাদেশের গবেষক কাজী মো. খায়রুল বাশার। এ পর্বে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং গণিতচর্চা ও সমস্যা সমাধানের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা, চিন্তাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে। প্রতিটি গাণিতিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করাকেও তিনি সাহসিকতার পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার বিজয়ীদের অভিনন্দন এবং অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের গণিতভীতি দূর করে গণিতের প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা তৈরি করে। নিয়মিত অনুশীলন, আনন্দের সঙ্গে গণিতচর্চা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জটিল সমস্যা সমাধান ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির তাঁর বক্তব্যে বলেন, তথ্যবিজ্ঞান, নিউরাল নেটওয়ার্ক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে গণিতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অলিম্পিয়াড তরুণ গণিতবিদদের বিকাশ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে সহায়তা করবে। আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদাউস বলেন, প্রতিযোগিতায় প্রাপ্ত অবস্থানই একমাত্র অর্জন নয়; নতুন কিছু শেখার আগ্রহ, কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার সাহস এবং পরস্পরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশ গণিত সমিতি, এ. এফ. মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-প্রতিনিধি, আয়োজক কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার দেব গণিতের মৌলিক ধারণা আয়ত্ত করা, নিয়মিত অনুশীলন এবং গাণিতিক সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও গবেষণামুখী মনোভাব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম তাঁর বক্তব্যে গণিতের মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে বোঝার পাশাপাশি নিয়মিত চর্চা ও যুক্তিনির্ভর চিন্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের গাণিতিক সমস্যা সমাধানে ধৈর্যশীল হওয়ার এবং বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গণিতের প্রয়োগ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশ গণিত সমিতির কাউন্সিল সদস্য ও ই-ম্যাথ বাংলাদেশের গবেষক কাজী মো. খায়রুল বাশার জানান, দেশের আটটি অঞ্চলে একই প্রশ্নপত্রে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। তিনি গণিতচর্চা ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে সমিতির বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এবং আয়োজনটি সফল করায় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গণিত সমিতির কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য,বাংলাদেশ গণিত সমিতির উদ্যোগে এবং এ. এফ. মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগ চট্টগ্রাম অঞ্চলের আয়োজনটি সম্পন্ন করে। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এ মর্যাদাপূর্ণ অলিম্পিয়াডের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পর্ব আয়োজনের দায়িত্ব পালন করল প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি,গণিত বিভাগ। ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৭টি কলেজের মোট ১২৬ জন শিক্ষার্থীর নাম নিবন্ধিত হয়; তাঁদের মধ্যে ১১৮ জন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬০ জন ছিলেন নারী শিক্ষার্থী। সেরা দশের ছয়জনই নারী, যা এবারের অলিম্পিয়াডের একটি উল্লেখযোগ্য দিক।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর ফলাফল অনুযায়ী, প্রথম স্থান অধিকার করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজ কুরুনি জিহাদ। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এমডি খলিলুর রহমান রিয়াদ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুমাইয়া আক্তার। চতুর্থ স্থান অধিকার করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বা সওদাগর মাহি এবং পঞ্চম স্থান অর্জন করে আয়োজক প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিশেষ আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করেন।

এ ছাড়া ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের সুমি আহমেদ। সপ্তম ও অষ্টম স্থান অর্জন করেন যথাক্রমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজমুল হাসান ও ফারজানা আক্তার। নবম স্থান অধিকার করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসরাত জাহান এবং দশম স্থান অর্জন করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনায়েদুল ইসলাম ইসফাত। এই দশজন প্রতিযোগী আগামী ৪ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ গণিত সমিতির পক্ষ থেকে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সমিতির পক্ষ থেকে বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম ক্রেস্টটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের হাতে তুলে দেন। অন্যদিকে, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার দেব ও কাজী মো. খায়রুল বাশারকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন-অর-রশিদ এবং কোষাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক ড. হারধন কুমার মহাজন। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দিনব্যাপী আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।

Latest News

Designed and Developed By Premier University Software Section (IT)
Copyright © 2024 Premier University IT. All rights reserved.